প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৯, ২০২৫, ৬:৫৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৯, ২০২৫, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠির নতুল্লাবাদ এলাকায় শালিশের নামে ফাঁদ, মামলার পরামর্শ দিয়ে হয়রানি ও বানিজ্যর অভিযোগ

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিনিধি | ঝালকাঠি। ঝালকাঠি সদর উপজেলার নতুল্লাবাদ ইউনিয়নের বাড়ৈয়ারা গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে হালিম হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি নিজেকে সমাজসেবক ও রাজনৈতিক কর্মী পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সম্প্রতি নাসিরুদ্দিন নামের এক বাসিন্দা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং প্রেসক্লাব বরাবর।লিখিত অভিযোগে নাসিরুদ্দিন উল্লেখ করেন হালিম হাওলাদার কখনো আওয়ামী লীগ, আবার কখনো বিএনপি নেতার পরিচয়ে নিজেকে তুলে ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রামীণ সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
অভিযুক্ত হালিম হাওলাদার মামলার নামে ভয়াবহ প্রতারণা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।সম্প্রতি ঝালকাঠি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান মামলা (মামলা নং: এমপি ৮৮/২৪)-এর আসামি নলছিটির ভৈরবপাশার বড় প্রেমহার গ্রামের মামুন খলিফার বিরুদ্ধে মোতাহার খলিফা অভিযোগ দাখিল করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, হালিম হাওলাদার ঐ একই মামলার পূর্বে খালাসপ্রাপ্ত আসামি মাজহারুল ইসলাম ও রহমান খলিফার জাল স্বাক্ষর দিয়ে রোয়েদাদ তৈরি করে আদালতে জমা দেন। এতে ব্যবহৃত হয় শালিশদার মাকসুদ মোল্লার জাল স্বাক্ষর দিয়ে রোয়েদাদ তৈরি করে আদালতে জমা দেয়,কিন্তু মাকসুদ মোল্লা থাকে ঢাকায় সে ঐ ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেনা বলেও উল্লেখ করেন। এই জাল কাগজের উপর ভিত্তি করে আদালতে রোয়েদাদ দাখিল করে আসামিকে খালাস করিয়ে আনেন হালিম। এতে বাদী বিবাদী উভয়ের স্বাক্ষর ‘জাল’ ছিল বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও অন্য একটি ঘটনায় হত্যা মামলার খালাসের নামে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে,বড় প্রেমহার গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামিলীগ সভাপতি মোতাহার খলিফা এর ছেলে ইসমাইল হোসেন কালু(শ্রমিকলীগ নেতা, ঢাকা), যিনি “২৪ সালের জুলাই আন্দোলন” সংশ্লিষ্টভাবে ঢাকার ভাটারা থানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে হত্যাচেষ্টার মামলায় (সিআর মামলা নং: ১২৯/২৫) আসামি, তার মামলার ‘খালাস’ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে হালিম হাওলাদার এক লক্ষ টাকা নেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, হালিম ঢাকায় কয়েকদিন ‘ঘুরে’ এসে বলেন:“মামলা আমি শেষ করে ফেলছি, সব ঠিক আছে”। কিন্তু পরে জানা যায়, মামলা চলমান রয়েছে এবং কোনো আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়নি।এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কিছু জানেনা বলে জানান, অথচ হালিম তাকে বলেছিলেন ভাটারা থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তা কে টাকা দিয়ে মামলা শেষ করে দিয়েছি।
অশিক্ষিত ও অসহায়দের টার্গেট করেই এই মামলার ফাদ পাতেন হালিম, অভিযোগ রয়েছে বড় প্রেমহার এলাকার বহু গরিব পরিবার, বিশেষ করে ‘খলিফা বাড়ীর’ অশিক্ষিত মানুষদের টার্গেট করেন হালিম হাওলাদার। খলিফা বাড়ী হান্নান খলিফা,শহিদ খলিফা,রহমান খলিফার পরিবারে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তাদের মা জহুরা বেগমকে দিয়ে ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা করিয়াছে হালিম হাওলাদার,ভাই দিয়ে ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করান। এমনকি স্থানীয় হান্নান খলিফার মা দিয়ে নিজের ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা করিয়ে তাঁদের জেল খাটানোর পেছনেও হালিম হাওলাদারের হাত ছিল বলে জানা গেছে।এবং সেই শালিসি নিজে করে উভয় পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে হালিম হাওলাদারের রাজনৈতিক পরিচয়ের রয়েছে দ্বৈত রূপ। এক সময় নিজেকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা দাবি করলেও বর্তমানে হালিম হাওলাদার নিজেকে বিএনপির নেতা বলে পরিচয় দিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের প্রতি প্রভাব বিস্তার করতে চান। স্থানীয়দের দাবি “গ্রামে কেউ দ্বন্দ্বে পড়লেই হালিম গিয়ে মামলা করার উপদেশ দেয়।”“নিজের এডভোকেট দিয়ে মামলা করায়, কমিশন নেয়।”“জাল কাগজ তৈরি করাই তার নেশা ও পেশা।”
এছাড়াও অভিযোগ পত্রে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাসিরুদ্দিন বলেন,এই প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বিচার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন—জাল রোয়েদাদ, প্রতারণামূলক মামলার ব্যবসা এবং অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ যেন আর না হয়। গ্রামীন সমাজের সহজ-সরল মানুষদের দুর্বলতাকে পুঁজি করে যারা মামলা, শালিশ ও রাজনৈতিক নাম ভাঙিয়ে অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে নেয়—তাদের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে সরব হওয়া ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত হালিম হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রিসালাত মীরবহর। অফিস: বরিশাল সদর, বরিশাল, বাংলাদেশ। www.obalardak.com, E-mail: obalardak@gmail.com, Contact: +8801516332727
Copyright © 2025 | অবেলার ডাক