
‘বাকশাল দিবসে’ ঝালকাঠিতে তরুণদের প্রতিবাদী কর্মসূচি : প্রতিকী কালো কাপড়ে মুখ বেঁধে গণতন্ত্র হত্যার প্রতিবাদ
বালী তাইফুর রহমান তূর্য, ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
২৫ জানুয়ারি ‘বাকশাল দিবস’ উপলক্ষে আজ ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা শেখ মুজীবের প্রবর্তিত বাকশাল তথা একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন এবং এটিকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক কালো অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ হওয়ার প্রতীক হিসেবে মুখে কালো কাপড় বেঁধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করে একদলীয় শাসন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বার্তা তুলে ধরেন।
কর্মসূচিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চের নেতা মোঃ খালেদ সাইফুল্লাহ, ইয়াসিন ফেরদৌস ইফতি, সাকিবুল ইসলাম রায়হান এবং অনামিকা দত্ত বৃষ্টি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে যে রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কার্যত ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। তারা বলেন, শেখ হাসিনা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই ইতিহাসকে গুম করা হয়েছে যার বহু অধ্যায় আজ রাষ্ট্রীয় পাঠ্যবই ও আনুষ্ঠানিক বর্ণনায় অনুপস্থিত।
বক্তারা আরও বলেন, বাকশালের জনক শেখ মুজিবের দুঃশাসনের সময় ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে দেশব্যাপী লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সেই শাসনধারার উত্তরাধিকার হিসেবেই পরবর্তীতে তার কন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোঃ খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। এই আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং রাষ্ট্রে আর কোনো বাকশালি বা ফ্যাসিবাদী কাঠামো রাখা যাবে না।তিনি রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন ও ভবিষ্যতের ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ সম্ভব।কর্মসূচিতে নতুন প্রজন্মকে ভুলে যাওয়া ইতিহাস চর্চার ও বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দলকে ইশতেহারে কমিটমেন্ট দেওয়ার আহবান জানানো হয়।


