প্রেম নয় কষ্ট

  • গল্প
  • ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
আজ নয় গতকাল। না, আরও অনেক আগে। হ্যা, ঠিক মনে পড়েছে। তখন আমি মেট্রিক ফাস্ট ডিভিশন পেয়ে কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্র। কিন্তু ঘটনাটি শুরু হয়েছিল আরও কয়েক বছর পূর্বে। যখন আমি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি, নিয়মিত স্কুলে যাই। আর সুযোগ পেলেই আড্ডায় বসি নয়তো খেলার মাঠে। এক কথায় বলা চলে আমি তখন মুক্ত এক বিহঙ্গ। বয়সের দিক দিয়ে হয়তো কৈশোরে পদার্পণ করেছি মাত্র। পাশের বাড়ির স্মৃতি বয়সে আমার ছোট। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে, ফুটফুটে চেহারা দেখতে খুবই সুন্দরী। ঐ কিশোরী ছোট বেলা থেকে আমার খেলার সাথী। প্রচুর ঝগড়া হতো দু’জনে, ঝগড়া না করিলে মনে হয় পেটের ভাত হজম হতো না। বড়জোর আধামিনিট অভিমান তারপর দু’জনেই উল্লাসে মেতে উঠতাম। আমি একটু অভিমান দেখালেই স্মৃতি আমাকে বলিত, ‘হৃদয়’ আমাকে ক্ষমা করে দাও তখন আমি না হেসে পারতাম না।
স্মৃতির একটি অভ্যাস ছিল, খেলার শেষে শত রাগ থাকিলেও, সে আমাকে না হাসিয়ে ছাড়তো না। বারবার বিদায় বলিলেও সে বলিতো একটু হাসও। না হাসিলে জোর করে হাসাতো। আমি হাসিলে সে ভিষণ খুশি হতো। শীতের সকাল মিষ্টি রোদ, স্কুলের আঙিনায় সবুজ ঘাসের উপর বসে ছিলাম। তখন স্মৃতি বলিল, ‘হৃদয়’ তুমি যত দূরেই থাকো চিরদিন আমায় মনে রেখো। দুজনের সম্পর্ক এত গভীর হলেও আমি তাকে বোনের দৃষ্টিতেই দেখতাম তাই সহজ কথাটাও উল্টো মনে হয়েছে। হঠাৎ একদিন, কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে স্মৃতির কাছে গেলাম। স্মৃতির চোখে জল, দেখে আমি অবাক! স্মৃতি কেঁদে কেঁদে বলিতে লাগিল- হৃদয়, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। আমি তোমাকে ছাড়া বাঁঁচব না। চলো অন্যত্র পালিয়ে যাই। আমার বিয়ে ঠিক, আগামীকাল বিয়ে।
স্মৃতির অবস্থা দেখে আমার চোখের জল ধরে রাখতে পারলাম না। এসব টের পেয়ে স্মৃতির মা আমার হাত ধরে কান্না শুরু করলো এবং কেঁদে কেঁদে বলিল- বাবা হৃদয়, ‘আমাকে ক্ষমা করো’। না হলে আমার মান-সম্মান ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। আমি তখন অসহায়। স্মৃতিকে জোর করে দেওয়া হলো অন্যের ঘরে। চেয়ে দেখি সবার চোখে শুধু জল আর জল। সারা বাড়ি জোরে কান্নার রোল। সবাই আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেতে লাগল- ‘হৃদয়’, স্মৃতি কে যেতে দাও। সেদিন থেকে স্মৃতি হল বিয়ের নামে অপহরণ! এখনও স্মৃতি আমার জন্যে কাঁদে, আমিও ভুলিতে পারি না স্মৃতিকে। তাই বলিতে ইচ্ছে হয়- ‘আজও প্রেমের আকাশে লাল টকটকে সুর্যোদয়, ওগো স্মৃতি একমাত্র তোমাকেই প্রিয় মনে হয়’।
স্মৃতির সাথে আমার অনেক দিনের প্রেম। এখন সেই প্রেম কষ্টে পরিণত হয়েছে। কষ্ট বুকে নিয়ে বাঁচিতে হবে আমার বাকিটা জীবন। অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু বুকের কষ্টটুকু কমাতে পারছি না। জানি সে আর কখনো ফিরে আসিবে না। আসিতে চাইলেও পারবে না। এখন ভুলের মাশুল আমাকেই দিতে হবে। প্রায়শ্চিত্ত করিতে হবে বাকিটা জীবন। জানি, তবু্ও পরিশোধ হবে না কিন্তু ওর কোন দোষ নেই। সবদোষ আমার। ‘ও’ এখনও আমাকেই চায়। আমি স্মৃতির কাছে যাব। স্মৃতি কে ছাড়া বাঁচতে পারব না। বিধাতা! তুমি এত নির্দয়, নিষ্ঠুর, নির্মম আর পাষাণ কেন? এটাই কি তোমার খেলা? তুমি না অসীম দয়ালু। তাহলে আমি কি এমন জঘন্য অন্যায় অপরাধ করেছি? যে কারণে তুমি আমার প্রতি এত নির্দয়। যে যাকে চায়, তুমি তাকে অনেক দূরে সরিয়ে দাও। তাহলে এটাই কি তোমার আসল খেলা?

লেখক: মাজেদুল হক।
পাটলী, নেত্রকোণা।
  • Related Posts

    দুই বোনের দুই ইচ্ছা

    দুই বোনের দুই ইচ্ছা আর. এম. কারিমুল্লাহ সওকত ক্লান্ত হয়ে ফিরলো দুপুরে – কই গেল আমার দুই মেয়ে! সুখী দুখি কই তোরা! বৃদ্ধ বাপ টা যে বাজার থেকে ফিরলো এক…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *